পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:মোঃ শাহিন খান্দাকার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় দিনের বেলায় টোকাই ছদ্মবেশে বসতঘরে ঢুকে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় চোরেরা। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী বিপুল কুমার বনিক (৩১) উপজেলার গার্লস স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহ যান। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা খোলা ও ভেতরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।
পাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে টোকাই বেশে এক পুরুষ ও দুই নারী খালি বস্তা নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। প্রায় ২০ মিনিট পর তারা তিন বস্তা মালামাল নিয়ে বের হয়। এরপর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে একই তিনজন আবার ঘরে ঢুকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে সেখান থেকে চলে যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, ওয়্যারড্রব, স্টিলের আলমারি ও খাটের ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার, কাঁসা-পিতলের বাসনপত্র ও কাপড়সহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
জানা গেছে, চোরেরা রান্নাঘরের পশ্চিম পাশের টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে। দিনের বেলা বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একাধিকবার প্রবেশ করে মালামাল সরিয়ে নেয়—যা তাদের সংঘবদ্ধ ও পেশাদার চক্র হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
১৮ এপ্রিল দুপুরে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে পরিকল্পিতভাবে চুরি করা হয়েছে। আমার প্রায় সবকিছুই নিয়ে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি চক্রের সহযোগিতায় এই চুরি সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহে একই এলাকায় মোটর, মসজিদের মাইক ও ব্যাটারি চুরির ঘটনাও ঘটেছে। চক্রটি ধরা পড়লে মূল হোতারা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও একই কৌশলে দিনের বেলায় একাধিক চুরি হয়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
0 মন্তব্যসমূহ